পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় রিভিউ | সৈয়দ শামসুল হক
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় বইটি লেখক সৈয়দ শামসুল হক । সৈয়দ শামসুল হক বাংলাদেশের
একজন প্রখ্যাত সাহিত্যিক । সৈয়দ শামসুল হক বাংলা সাহিত্যের কবিতা, উপন্যাস, নাটক,
ছোটগল্প, অনুবাদসহ সকল শাখায় সমান ও সাবলীল ভাবে পদচারণা করেছেন । এ জন্য তাকে “সব্যসাচী
লেখক” বলা হয়ে থাকে ।
সৈয়দ শামসুল হক তার প্রতিভার জন্য অসংখ্য পুরুস্কার
তিনি লাভ করেন । আজকের বুক রিভিউতে সৈয়দ শামসুল হক এর মুক্তিযুদ্ধা ভিত্তিক কাব্যনাট্য
“পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” নিয়ে আলোচনা করবো ।
আরও পড়ুনঃ পদ্মা নদীর মাঝি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় | বুক রিভিউ
আরও পড়ুনঃ লালসালু - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ | বুক রিভিউ
বন্ধুরা, আজকের ব্লগ পোস্টে যে বইটির রিভিউ করবো সেই বইটির নাম “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” । এর লেখক বাংলাদেশের বিখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক । এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশীত হয় ১৯৭৬ সালে । তাহলে চলুন বন্ধুরা পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় রিভিউ | সৈয়দ শামসুল হক সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক ।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় নাটকের মূলভাব
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
কাব্যনাট্য “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” । ১৯৭৫ সালে ১ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত লন্ডনের
হ্যাম্পস্টেডে তিনি নাটকটি রচনা করেন । নাটকটিতে আলাদা কোন অদৃশ্য বিভাজন নেই । শুরু
থেকে শেষ পর্যন্ত নাটকটি একটানা লিখিত হয়েছে ।
বিষয়বস্তুর দিক থেকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অবস্থার প্রতিফলন
হওয়াতে তৎকালীন বাস্তব চিত্র হিসাবে নাটকটি বিশেষ গুরুত্বের অধিকারী । লেখকের বাস্তব
অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতে ঘটনা বর্ণনা ও চরিত্রচিত্রণে বিশেষ দক্ষতার প্রকাশ ঘটেছে ।
এই কাব্যনাট্য উপভাষার প্রয়োগে লেখক বিশেষ কৃতিত্বের
পরিচয় দেন । এখানে উপভাষার প্রয়োগ হয়েছে বোধগম্য ও সরল চলিতরূপে । মুখের ভাষাকে
পরিশীলিত করে কাব্য ভাবনার উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে ।
সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম কাব্য নাট্য হলেও “পায়ের আওয়াজ
পাওয়া যায়” বিশেষ সাফল্য অর্জন করে এবং মঞ্চ নাটকের মাধ্যমেও তা অত্যধিক জনপ্রিয়তা
লাভ করে ।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় pdf
বন্ধুরা, আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা পায়ের আওয়াজ
পাওয়া যায় pdf খোঁজ করে থাকেন । আপনাদের সুবিধার্তে এখানে আরেক পায়ের আওয়াজ পাওয়া
যায় pdf ফাইলটি দেওয়া হলো । এখান থেকে উপন্যাসটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন ।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় - সৈয়দ শামসুল হক |
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় লেখক পরিচিতি
নামঃ সৈয়দ শামসুল হক ।
গ্রন্থের নামঃ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ।
জন্মঃ ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৩৫ কুড়িগ্রাম ।
মৃত্যুঃ ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ঢাকা ।
প্রবন্ধঃ হৃৎ কলমের টানে (১ম খন্ড ১৯৯১, ২য় খন্ড ১৯৯৫)
ও মার্জিনে মন্তব্য ।
গল্পঃ তাস (১৯৫৪), শীত বিকেল (১৯৫৯), সৈয়দ শামসুল হকের
প্রেমের গল্প (১৯৯০) ইত্যাদি ।
উপন্যাসঃ দেওয়ালের দেশ (১৯৫৯), এক মহিলার ছবি (১৯৫৯),
সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪), নিষিদ্ধ লোবান, নীল দংশন (১৯৮১), বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ (১৯৮৯),
খেলারাম খেলে যা (১৯৯১) ইত্যাদি ।
কাব্যগ্রন্থঃ বৈশাখে রচিত পঙক্তিমালা (১৯৭০), অগ্নি
ও জলের কবিতা (১৯৮৯), প্রতিধ্বনিগন, পরানের গহীন ভিতর (১৯৮০), ইত্যাদি ।
কাব্যনাট্যঃ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (১৯৭৬), গণনায়ক
(১৯৭৬), নুরুলদীনের সারাজীবন (১৯৮২), ইত্যাদি ।
অনুবাদ গ্রন্থঃ ম্যাকবেথ, টেম্পেস্ট, শ্রাবণ রাজা (১৯৬৯)
।
শিশুতোষঃ সীমান্তের সিংহাসন (১৯৮৮), আনু বড় হয়, হডসনের
বন্দুক ।
পুরস্কারঃ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), আদমজী
সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার- চিত্রনাট্য, সংলাপ ও গীতিকার
(১৯৮২ ও ১৯৮৩), একুশে পদক (১৯৮৪), নাসিরুদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৯০), স্বাধীনতা পুরস্কার
(২০০০) ।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় কাহিনি সংক্ষেপ
“পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” নাটকের বিষয় হিসেবে বিবেচিত
হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিককার ঘটনাবলী । নাটকের চরিত্র হিসেবে রয়েছে মাতবর, পীর
সাহেব, মাতবরের মেয়ে, পাইক, গ্রামবাসী, তরুণ দল ও মুক্তিযোদ্ধারা ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠাকে কেন্দ্র
করেই নাটকের পটভূমি তৈরি হয়েছে । মুক্তিযুদ্ধ চলছে । কালিপুর, হাজিগঞ্জ কিংবা ফুলবাড়ী,
নাগেশ্বরী থেকে দলে দলে মানুষ আসছে ।
“মানুষ আসতে আছে যমুনার বানের লাহান/মানুষ আসতে আছে
মহরমের ধুলার সমান” । হতবিহ্বল গ্রামবাসী মুক্তিযুদ্ধকালে নিজেদের করণীয় কিংবা বাঁচার
উপায় মাতবরের কাছে জানতে চায় । গ্রামবাসীর ধারণা; মাতবর ক্ষমতার অধিকারী । আর সে
কারনে শধুমাত্র তিনিই পারেন ভয়াবহ এ বিপদ থেকে সবাইকে বাঁচাতে ।
এই মাতবরই হচ্ছেন নাটকের প্রধান চরিত্র । মাতবর একপর্যায়ে
তাদের আশ্বস্ত করেন, গত রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন এর সঙ্গে তার দেখা ও
আলাপ হয়েছে । তাই মাতবর সবাইকে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর ভরসা রাখতে বলেন ।
পাশাপাশি মুক্তিবাহিনী থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন
। তবে মাতবরের আশ্বাসের পরও গ্রামবাসীর মনের দ্বিধা দূর হয় না । মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর
সহযোগী অর্থাৎ রাজাকার । কিন্তু তিনি যে পাকিস্তানপন্থী সেটা গ্রামের সহজ সরল মানুষ
শুরুতে আন্দাজ করতে পারে না । এমনই সময় মাতবরের মেয়ে ঘরের বাইরে এসে জানায়, তার
বাবা মূলত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর ।
জোর করে গত রাতে তাকেও মাতবর পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের
হাতে তুলে দিয়েছিলেন । মাতবর ও তার মেয়ে এবং গ্রামবাসীর একের পর এক সংলাপে মুক্তিসংগ্রামের
বিষয়গুলো পুরিস্ফুটিত হতে থাকে ।
মাতবর গ্রামবাসীকে জানান, তার মেয়েকে তিনি এক রাতের
জন্য হলেও পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের কাছে বিয়ে দিয়েছিলেন । এক পর্যায়ে মাতবরের মেয়ে
অপমানে-লজ্জায় বিষপানে আত্মহত্যা করে । ঘটনা এগোতে থাকে । গ্রামের মানুষ মাতবর এর
মৃত্যু চায় ।
এদিকে মাতবরের কানে বারবার পায়ের আওয়াজ ভেসে আসতে
থাকে । এই আওয়াজ আসলে মুক্তিযোদ্ধাদের পদধ্বনি । বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মাতবরের পাইক
একসময় মাতবরকে হত্যা করে । এক রাজাকার/আলবদর এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তাদের
জাতীয় জীবনে মুক্তির দিশা দেখতে পায় ।
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় FAQ
প্রশ্নঃ “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” কাব্যনাটকের রচয়িতা
কে?
উত্তরঃ সৈয়দ শামসুল হক ।
প্রশ্নঃ “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” কি ধরনের রচনা?
উত্তরঃ কাব্য নাটক ।
প্রশ্নঃ মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক নাটক কোনটি?
উত্তরঃ পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় ।
প্রশ্নঃ “পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়” কাব্যনাট্য মৌল
বিষয় কি?
উত্তরঃ মুক্তিযুদ্ধ ।
এই রকম আরো পোস্ট পেতে চাইলে “জিনিয়াস বাংলা ব্লগ” এর কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে আমাদের জানিয়ে দিন । আমরা আপনাদের চাহিদা অনুযায়ী লেখা পোস্ট করার চেষ্টা করবো ।
আরও পড়ুনঃ চিলেকোঠার সেপাই - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস | বুক রিভিউ